উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্রাম্পের আবাসন ব্যবসার বিস্তার, চার দেশে সাত প্রকল্প

গালফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্পত্তি ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন।

দুবাইয়ের শেখ জায়েদ রোডে উঠছে ৮০ তলাবিশিষ্ট একটি টাওয়ার। সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদে তৈরি হচ্ছে গলফ কোর্স, হোটেল ও বিলাসবহুল আবাসন। কাতারের দোহায় হচ্ছে গলফ রিসোর্ট। ওমানের রাজধানী মাসকাটেও রয়েছে রিসোর্ট নির্মাণের পরিকল্পনা। এসব প্রকল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম। খবর দ্য ন্যাশনাল।

গালফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলে সম্পত্তি ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। বর্তমানে চারটি দেশে সাতটি বড় প্রকল্প নির্মাণাধীন রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে গলফ কোর্স, হোটেল ও বিলাসবহুল আবাসিক ভবন। প্রকল্পগুলো রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব, কাতার ও ওমানে। সব মিলিয়ে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় আবাসন বাজারে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের উপস্থিতি আরো বাড়ছে।

প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই সৌদি আরবের তালিকাভুক্ত আবাসন কোম্পানি দার আল আরকানের আন্তর্জাতিক সম্পত্তি ব্যবসা দার গ্লোবালের সঙ্গে অংশীদারত্বে তৈরি হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের প্রবেশ অবশ্য নতুন নয়। ২০১৭ সালে ইউএইর আবাসন উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান ড্যামাকের সঙ্গে দুবাইয়ে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ ক্লাব নির্মাণের মাধ্যমে এ অঞ্চলে প্রথম প্রকল্প শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর ধীরে ধীরে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে।

দ্য ন্যাশনালকে ২০২৪ সালে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এ অঞ্চলে ট্রাম্পের পরিবার ও প্রকল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। দুবাইয়ে যখন অন্য অনেক পশ্চিমা ব্র্যান্ড বিনিয়োগে আগ্রহী ছিল না, তখনই ট্রাম্প ব্র্যান্ড সেখানে প্রবেশ করেছিল।’

উপসাগরে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সম্প্রসারণের কেন্দ্রে রয়েছে সৌদি আরব। দেশটিতে তিনটি প্রকল্প নির্মাণাধীন। এর মধ্যে দুটি জেদ্দায়। আরেকটি রাজধানী রিয়াদের ওয়াদি সাফারে। রিয়াদের প্রকল্পটি দিরিয়াহ কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বে তৈরি হচ্ছে।

তিন প্রকল্পেই ট্রাম্প ব্র্যান্ডের গলফ কোর্স, আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ও উচ্চমূল্যের আবাসন থাকবে। এসব আবাসনের মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ও টাউনহাউজ রয়েছে। প্রকল্পগুলো ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।

কাতারেও গত বছর একটি প্রকল্প শুরু করেছে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন। এটি তৈরি হচ্ছে দোহার সিমাইসমা উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে। প্রায় আট লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে প্রকল্পটি গড়ে উঠবে। পুরো সিমাইসমা প্রকল্পের আয়তন প্রায় ৮০ লাখ বর্গমিটার।

এখানে থাকবে ১৮ হোলের ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ কোর্স। থাকবে ট্রাম্প গলফ ক্লাবহাউজ ও ব্র্যান্ডেড ভিলা। বিলাসবহুল পর্যটন ও আবাসনকেন্দ্রিক এ প্রকল্প কাতারের উচ্চমূল্যের সম্পত্তি বাজারে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের উপস্থিতি বাড়াবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি হচ্ছে দুবাইয়ের ট্রাম্প টাওয়ার। শেখ জায়েদ রোডে দার গ্লোবালের সঙ্গে যৌথভাবে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে এটি নির্মাণ করা হচ্ছে।

৮০তলা ভবনটিতে থাকবে ৫০০টি আবাসিক ইউনিট। পাশাপাশি থাকবে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের একটি হোটেল। থাকবে বিশেষ সদস্যদের জন্য একটি প্রাইভেট ক্লাবও।

উপসাগরীয় অঞ্চলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের চার দেশের উপস্থিতি পূর্ণ করেছে ওমান। দেশটির রাজধানী মাসকাটে দার গ্লোবালের সঙ্গে মিলে একটি রিসোর্ট তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

রিসোর্টটিতে থাকবে ভিলা, হোটেল ও গলফ কোর্স। এর মাধ্যমে ওমানের পর্যটন ও বিলাসবহুল আবাসন বাজারেও ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বিস্তার ঘটছে।

ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সম্পত্তি ব্যবসা শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও উরুগুয়েতেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে।

এর বাইরে কিউবায়ও ট্রাম্প ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল পর্যটন প্রকল্পের আলোচনা চলছে। দেশটির রাজধানী হাভানার পূর্বে সান্তা মারিয়া দ্বীপে প্রকল্পটি করার বিষয়ে দুবাইভিত্তিক আবদুল্লা আলি বিন হায়দার গ্রুপ ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিউবা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি সমঝোতার আগ্রহপত্রও স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এখনো প্রকল্পটি অনুমোদন করেনি।

গত বছর সিরিয়ায়ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৪৫ তলাবিশিষ্ট একটি বিলাসবহুল টাওয়ার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক একটি আবাসন কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বে দামেস্কে প্রকল্পটি তৈরির কথা বলা হয়। তবে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন ওই খবর নিশ্চিত করেনি।

আপাতত ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের আন্তর্জাতিক সম্পত্তি ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উপসাগরীয় অঞ্চল। চার দেশে সাতটি প্রকল্প এরই মধ্যে নির্মাণাধীন। সৌদি আরব, ইউএই, কাতার ও ওমানে এসব প্রকল্পের বিস্তার দেখাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের আবাসন ও পর্যটন বাজারে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের ব্যবসা এখন আরো বড় পরিসরে এগোচ্ছে।

আরও